অনিয়ম ও দূর্নীতির পরেও বহাল তবিয়তে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সিহাব উদ্দিন

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধিঃ দূর্নীতি ও নানা অনিয়ম অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোঃ সিহাব উদ্দিন।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগসহ অফিস ঠিকমতো না করেই বাইরে থাকা,কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারীর সাথে কথা বললে তিনি সাথে সাথে সব অভিযোগের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু অধীনস্ত হওয়ায় প্রকাশ্যে কাউকে বলতে পারেনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে খাদ্য কর্মকর্তা সিহাব উদ্দিন তার নিজ এলাকা বগুড়ার গ্রামের বাড়ীতে ৩-৪ দিন করে থেকে যান।যদিও সব জেলার সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে সার্বক্ষনিক কর্মস্থলে থাকতে হবে।

অভিযোগ প্রমাণ করতে গেলে দেখা যায়, খাদ্য বিভাগে চাকরির পর সিহাব উদ্দিন রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ তৈরি করেছে।অনেকের মুখে মুখে শোনা যায়,খাদ্য অধিদফতরের চাকরি পেয়ে সে আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গতবছর জুন মাসে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে নতুন বস্তার জায়গায় পুরাতন ও নিম্নমানের খালি বস্তা কেনার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. সিহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের মেসার্স হাফসা টেক্সটাইলের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে ৩০ কেজি ধারণক্ষমতার ২ লক্ষ পিস খালি বস্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামের জন্য সংগ্রহ করা হয়। দুই লক্ষ পিস বস্তার মধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার পিস পুরাতন এবং বাকি ৮০ হাজার পিস বস্তা দীর্ঘদিন আগের নতুন বস্তা। এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কেনা বস্তাগুলোর ওজন ৩১৪ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও তা রয়েছে ২৬০-২৬৫ গ্রাম। খালি বস্তা কেনায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক, রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ১২ জুলাই একজন ব্যবসায়ী অভিযোগও করেছিলেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য বিভাগের সাথে মেসার্স হাফসা টেক্সটাইলের চুক্তি অনুসারে নাম, ঠিকানা ও উৎপাদন মাস সম্বলিত স্টেনশীল প্রতিটি বস্তা সরবরাহ করবেন৷ কিন্তু ১০ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে নিম্নমানের খালি বস্তা কিনেছেন সদর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. সিহাব উদ্দীন।

নিম্নমানের খালি বস্তা কেনায় তাকে সহযোগিতা করেছেন, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোজাম্মেল হোসেন।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, দুই লক্ষ পিস খালি বস্তার দাম প্রতিটি ৩৯ টাকা নেয়া হলেও, সরবরাহ করা হয়েছে ১৭ টাকা মূল্যের নিম্নমানের বস্তা।
এছাড়াও খুলানার আইয়ান জুট মিলস হতে আরো ১ লক্ষ ২০ হাজার পিস খালি বস্তা কেনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানানো হয়।

এবিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিককে কল দিলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,গত ২০ জুলাই ২০২০ইং তারিখে তার বেপরোয়া দুর্নীতি নিয়ে জাতীয় পত্রিকা যুগান্তরে খবর প্রকাশ করা হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন