আক্ষেপ কেবল! বিচারিক শাসনের স্বর্ণসময়েও ভাই হত্যার বিচার না পাওয়া

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১

২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুর্ব পরিকল্পানামাফিক রাতের আধারে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একযুগে সবকয়টি হলে নারকীয় তাণ্ডব চালায় ৭১ এর পরাজিত শক্তির প্রেত্মাতা জামাত শিবির। ঘটনার সুত্রপাত ৬ ফেব্রুয়ারি। নিজামীর জনসভাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রশিক্ষিত জামাত ক্যাডার’রা জড়ো হয় রাজশাহীতে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার ও রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যর্থ করে, ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতেই ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালোরাত্রির মত অতর্কিত হামলা চালায় জামাত শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডারবাহিনী। রক্তক্ষয়ী এ হামলায় নিহত হয় মুজিব আদর্শের মেধাবী ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন।আহত হন ফিরোজ, আসাদ, রাহী ভাই সহ অনেকেই।
ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক শাসনের রাহুগ্রাস ভেঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে জনগন মুখ থুবড়ে পড়া যে গনতন্ত্রের মুক্তি দিয়েছিল সে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কে রুদ্ধ করতেই রাতের আধারে প্রগতিশীলতার টুটি চেপে ধরার সেই অপপ্রয়াসকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ করে।

ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু ভাই বাদী হয়ে শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও অনেক শিবির নেতাকর্মীর নামে নগরীর মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদালতে ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাবি ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ, সেক্রেটারি মোবারক হোসেন, নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, শিবিরকর্মী রুহুল আমিন ও বাপ্পীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর ১১ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার(০৮ ফেব্রুয়ারি)। অথচ আজও এই বহুলালোচিত মামলার বিচার কার্য শেষ হয়নি । যদিও বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।।

বিশ্বজিৎ, নুসরাত, রিফাত সহ আলোচিত সকল হত্যা মামলার বিচার হয়েছে…. আক্ষেপ কেবল ভাই হত্যার বিচার না পাওয়া…… ছাত্রলীগ যেন ভাসুরের নাম!!

মমতাময়ী জননী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথ প্রশস্ত ও মসৃণ রাখতে যাদের রক্তের শোণিত ধারায় মতিহারের সবুজ চত্বরে অংকিত হয়েছে মুজিব আদর্শের বিজয় নিশান অকৃত্রিম শ্রদ্ধা তাদের প্রতি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখকঃ
কৌশিক আহমেদ
সাবেক সভাপতি, নবাব আব্দুল লতিফ হল, রাবি ছাত্রলীগ।

সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

পোস্টটি শেয়ার করুন