আল্লাহর কসম করে এত মিথ্যাচার আর নারী কেলেঙ্কারি! আলেম সমাজও লজ্জিত বিব্রত

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১

বিশেষ প্রতিবেদন: হেফাজত ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রীর বিষয়ে আত্মীয় স্বজন সহ দলীয় কোন লোকজন জানতো না।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে একই রুমে আটক করা কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর কোন প্রমাণ ২৪ ঘন্টা পার হলেও তিনি বা তার দলের কেউ দেখাতে পারে নি। মামুনুল হকের এমন কর্মকান্ডে লজ্জিত ও বিব্রত অন্যান্য আলেমরা। এ বিষয়ে আলেমরাও বিবৃতি দিয়েছেন।

উল্টো খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে মামুনুল হকের কোন দ্বিতীয় বিবাহ হয়নি।

ঘটনার পরদিনে ৪ এপ্রিল রবিবার বিকেলে ঢাকায় হেফাজতের প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকেরা মামুনুল হক ও তার স্ত্রীর কল রেকর্ডিং সত্য কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে হেফাজত নেতারা অন্য প্রসঙ্গে চলে যায় সেই সাথে হট্টগোল শুরু করে। তার মানে এটাই ধরে নেওয়া যায় মামুনুল হক রিসোর্টে রুমে সাথে থাকা জান্নাত আরা ঝর্ণা বৈধ স্ত্রী নয়, তার প্রথম স্ত্রী জানে না।

দ্বিতীয় কল রেকর্ডিং য়ে দেখা যায়, মামুনুলের বোন মামুনুলের স্ত্রীকে শিখিয়ে দিচ্ছে যে কিভাবে মিডিয়া বা প্রশাসনের লোকের সাথে কথা বলবে। তাকে বলা হচ্ছে যে, কেউ দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা জিজ্ঞেস করলে বলবা যে তুমি সব জানো। এসময় মামুনুলের স্ত্রীর কন্ঠে খুব কষ্টে আঘাতজনিত শোনা যায়।

কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী আলোচিত সেই নারী জান্নাত আরা ঝর্ণা (২৭)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেজো মেয়ে। ওলিয়ার রহমান কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

অথচ মামুনুল হক রিসোর্টের রেজিস্ট্রার খাতায় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নাম দিয়েছেন আমেনা তৈয়বা। যা তার আসল স্ত্রী র নাম।

হোটেল রেজিস্ট্রার খাতায় জান্নাত আরার জায়গায় আমেনা তৈয়ব!!!


সরেজমিনে সাংবাদিকরা জান্নাত আরা ঝর্ণার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা ওলিয়ার রহমান ও মাতা শিরীনা বেগমের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, তাদের মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার নয় বছর বয়সে বিবাহ হয়েছিল হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তার বাড়ি বাগেরহাটের কচুড়িয়া এলাকায়। তাদের আব্দুর রহমান (১৭) ও তামীম (১২) নামে দুজন পুত্রসন্তান রয়েছে।

পরিবার সূত্রে আরো জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপরে দু’বছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিবাহ করার কথা বললে সে বলত তার বিবাহ হয়ে গেছে, তাই তার জন্য আর কোনো পাত্র না দেখতে। তবে কার সঙ্গে সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে, সে কথাটি পরিবারকে জানায়নি কখনো।

স্থানীয় গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান জানান, ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান একজন সহজ সরল মানুষ। কামারগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে। তার দুই ছেলেও আছে, পরে বিয়ে হয়েছে কিনা জানি না। এলাকার কেউ জানে বলেও মনে হয় না।
পরে সাংবাদিকেরা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারাও জানে না যে মামুনুল হকের সাথে ঝর্ণার বিয়ে হয়েছে।

এই অনাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিস্মিত ইসলামি চিন্তাবিদরা। তারা বলেন, কিছুদিন আগেই ১২ জন হেফাজতের নেতাকর্মী মারা গেলো তার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে অথচ তিনি কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে চিত্ত বিনোদনের জন্য রিসোর্টে বিলাসবহুল সময় কাটাতে গেলেন!! একজন আলেম হয়ে এরকম ব্যক্তিগত জীবনযাপন তাহলে তিনি কিভাবে মুসলমানদের পথ দেখাবেন নিজেই তো মিথ্যুক ও পাপকাজে লিপ্ত।

শুধু দুজনে কবুল বলে কি মানবিক বিয়ে শরীয়ত সম্মত হয়???


তারা আরো জানান, কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী যদি সত্যিই তার হয় তাহলে সেটাও তো যেনা র বিষয়। বিয়ে শুধু দুজনেই কবুল করলে হয় না। সামাজিক স্বীকৃতি লাগে। স্বাক্ষী লাগে। হযরত ওমর(রা:) যখন খলিফা ছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, গোপনে যে ব্যক্তি বিয়ে করবে অথচ পাড়াপ্রতিবেশি আত্মীয় স্বজন সহ সমাজের কেউ জানে না। তাদের ঐ সম্পর্ক হারাম। আমি নিজে তাদের জন্য যেনার শাস্তি র দাবি করবো।

এদিকে নারায়নগঞ্জের হোটেলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব মামুনুল হকের কর্মকান্ড ইসলাম ও আলেম সমাজকে কলংকিত করেছে। এমন দাবি করেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।

রবিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বারবারই হেফাজতের আচরণে বিব্রত হয়েছেন দেশের আলেমরা। ক্ষুন্ন হয়েছে ইসলামের ভাবমূর্তি।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চালানো তান্ডবলীলায় জড়িত হেফাজত কর্মীদের বিচার দাবি করেন বক্তারা। সংগঠনের মুখপাত্র মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ও স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এম এ মতিনসহ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রয়াল রিসোর্টের ৫ম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ‘নারীসহ’ অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। 

পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মামুনুল হকের দাবি, সঙ্গে থাকা নারী নাম আমিনা তৈয়ব। তিনি মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিনাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সশস্ত্র হেফাজতের নেতাকর্মীরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং রিসোর্ট সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ অফিস ভাংচুর করে তারা।

——
মু: আতিকুর রহমান সুমন
সম্পাদক
চাঁপাই ট্রিবিউন।

পোস্টটি শেয়ার করুন