গোদাগাড়ীতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। দেশে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় গোদাগাড়ী উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা থেকে পালিয়ে থাকলেও বর্তমানে উপজেলাটি জুড়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে, তার আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশের তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সামনের কাতারে দেখা যায় বেশির ভাগ সময়। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারণ মানুষরা। মুখ ফুটে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। আর প্রতিবাদ করলেই উল্টা পুলিশি হয়রানিসহ হামলার শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা গাঁঢাকা দিয়ে থাকলেও আগে তারা গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পরে বর্তমানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ওই সব মাদক কারবারিরা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ ক্ষমতাশীন দলের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাদের নেতৃত্বের ভূমিকাতে দেখা যায়। এমন কি শীর্ষ এসব মাদক ব্যবসায়ীরা সব সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের ছত্রছায়াতে ও আশ্রয় পেয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সেই সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা ফের মাদক ব্যবসাতে। উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতার প্রভাবে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হওয়া থেকেউ ধরাছোয়ার বাইরে রয়েগেছে।

চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী (লাল বৃত্তাকার)

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক সম্রাট টিপু সুলতান এর প্রধান সহযোগী এবং উত্তরবঙ্গের ইয়াবার তিনটা মাদক সম্রাট ডিলার এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা আনারুল বিশ্বাসের ছেলে রুমেন বিশ্বাস অন্যতম। রুমন বিশ্বাস স্বরাষ্ট মন্ত্রানলয়ের তালিকা ভুক্ত শীর্ষ মাদক সম্রাট এ উপজেলায়। এ ছাড়াও রুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ চাচা চেয়ারম্যানের দাপটে অবৈধ ভাবে বালুমহল দখল বাজিসহ হাজারো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তার পরেও প্রশাসনের ধরাছোয়ার বাইরে এ শীর্ষ মাদক সম্রাট রুমেন বিশ্বাস। সাম্প্রতিক ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মাদক সম্রাট রুমেন বিশ্বাস ও তার চাচাতো ভাই মাসুম বিশ্বাস কে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি করা নিয়ে চরম সমালচনার ঝড় বইছে। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে।

এদিকে, উপজেলার আরেক মাদক সম্রাট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা ভুক্তি মাদক সম্রাট গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সেতাবুর রহমান বাবু। উপজেলা চেয়ারম্যানের অতি ঘনিষ্ঠ জন হিসাবে সবার কাছে পরিচিত।

গত বছর রাজশাহী পুলিশ লাইলে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে। উপজেলা চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ ও নিকট আত্নীয়রাই উপজেলা জুড়ে গড়ে তুলেছে বিশাল মাদকের সিন্ডিকেট। এসব শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে প্রশাসনের কিছু অসাদু কর্মকর্তারা। এলাকায় গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। ক্ষমতার দাপটে গোদাগাড়ী উপজেলা থেকে কোটি কোটি টাকার মাদক যাচ্ছে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে। দুই একটা মাদকের চালান ধরা খেলেও বেশির ভাগ মাদকের বড় চালান পাচার হয়ে যায় বিভিন্ন স্থানে।

এদিকে, গোদাগাড়ী থানার প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির পুরো এলাকা জুড়ে চলছে রমরমে মাদক ব্যবসা। ফাঁড়ি পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা চুক্তি করে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আর এ কারনে ফাঁড়ি পুলিশের হাতে দীর্ঘদিন যাবত কোন মাদক উদ্ধার ও কোন গ্রেপ্তার নেই।

প্রেমতলী এলাকার অন্যতম মাদক বিক্রির স্পট গড়ে উঠেছে উপজেলার শেষ সীমানা রাজাবাড়ি দেউপাড়া ইউপির কামিরপাড়া ও খরচাকা এলাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়নের বিয়ানাবুনা গ্রামের খরচাকা এলাকার চার মাদক ব্যবসায়ী মিলে গড়ে তুলেছে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে মাদকের রমরমে ব্যবসা করছে এলাকার চার মাদক ব্যবসায়ীরা। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা মাদক বিক্রি করলেও প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে গড়ে তুলেছে বিশাল মাদকের সিন্ডিকেট।

এলাকায় চার অন্যতম মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করেন মো রাকিব (২৬) পিতা: গোলাপ, সাং গহমবনা, পবা। কিন্তু রাকিব গোদাগাড়ীতে বর্তমানে খরচাকা বিজিবি ক্যম্পের পাসে খরচাকা গ্রামে মাদকের রমরমে ব্যবসা করছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বাইক নিয়ে একাধিক যুবক মাদক সেবনের জন্য তার বাড়িতে ভীড় জমায়। অথচ তার কিছু দুরেই বিজিবি ক্যাম্প।

অপরদিকে, আরেক মাদক ব্যবসায়ী ইন্তাজুল (৩৪) পিতা: দুলাল হোসেন সাং: খরচাকা ও তার ভাই এবাদুল (২৮)। তারা প্রতিনিয়ত ভারত সীমান্ত থেকে ফেনসিডিলের চালন নিয়ে এসে এলাকায় বিভিন্ন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কে দিয়ে বিক্রয় করায়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে কথা বলতে পারে না। এছাড়া আরেক মাদক ব্যবসায়ী নাঈম (২৫), পিতা মোস্তফা সাং কামিরপাড়া সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করে থাকে। এদের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়িতে একাধিক বার অভিযোগ দিয়েও তাদের গ্রেপ্তার করে না পুলিশ। এতে হতাশ এলাকার সাধারন মানুষরা।
এছাড়াও উপজেলার, বিদিরপুর, খিদিরপুর, রাজাবাড়ি, মহিষালবাড়ি, গোপালপুরসহ পদ্মানদীর পাড় এলাকায় একাদিক মাদকের স্পট গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয় বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি মিডিয়া মো সোহেল রানা বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী মাদকের একটি বড় রুট। পুলিশ উপজেলার তারিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের উপরে গোয়েন্দা নজর দারিতে রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, বিষটি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হবে। মাদকের সাথে জড়িত যত বড় ব্যক্তি থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কোন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতা যদি কোন পুলিশের থাকে তবে ডিপার্টমেন্ট সেই পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন