ছাত্রলীগ নেতা আতিকের উপর হামলার ১১ দিন পার হলেও মুল আসামিরা গ্রেফতার নেই

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁপাই ট্রিবিউন অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন এর উপর তার নিজ গ্রামে স্থানীয় বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার ১১ দিন পার হলেও মূল আসামী রা গ্রেফতার হয়নি।

বরং আসামিরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে তাদের কিছুই হবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ইসলাম পুর গ্রামে কে একা পেয়ে হামলা করে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম এর ভাতিজা ছাত্রদল ক্যাডার জিম, তার কিছুক্ষণ পর ট্রিটমেন্টের হাসপাতাল যাওয়ার সময় আবারো ক্যাডার জিমসহ বিএনপি জামাতের প্রায় ১৫-২০ জন সসন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি সহ দ্বিতীয় দফা হামলা করে আতিকের বাম হাত এর কব্জি কেটে ফেলে।দুটো রগ বাদে সব রগগুলো কেটে যায়।

দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখানে ৮ দিন চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে একজন হ্যান্ড সার্জন বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ডাক্তার বলছেন ছয়মাসের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর বোঝা যাবে হাতের স্বাভাবিক অবস্থা কেমন হবে।

দীর্ঘ ১০ দিন পর গুরুতর আহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আতিক কিছুটা কথা বলতে পারলে তিনি জানান, গত জাতীয় নির্বাচন থেকে স্থানীয় ছাত্রদল ক্যাডার জিমসহ বিএনপি জামাতের লোকজনের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। সেদিনের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় এমপি নির্বাচিত হলে পরের দিন সকালে আমার বাড়ির সামনেই এসে হাত পায়ের কেটে নেওয়ার দেয় সন্ত্রাসী জিম। এরপর বিভিন্ন সময় এলাকায় দেখা হলেই হুমকি দিতো। তার সাথে স্থানীয় জামায়াতের আমির ও সাবেক শিবির ক্যাডার কুরবানও হুমকি ধামকি দিতো। নিজ গ্রামের বিধায় বিষয়গুলো নিয়ে আমি কাছের দুই তিনজন ছোট ভাই ছাড়া কাঊকে জানায়নি। আমি চেয়েছিলাম নিজ এলাকায় রাজনৈতিক গন্ডগোল এড়িয়ে যেতে। কিন্তু তারা বারবার আমাকে মারার চেষ্টা করে। গত ১৭ তারিখ আমি বাড়ীতে গেলে দুপুর থেকে জিম ও জামাত ক্যাডার করবান আমাকে ফলো করতে থাকে। মাগরিবের আজানের যখন রাস্তাঘাট ফাঁকা একা পেয়ে জিম আমার উপর হোন্ডা উঠিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।আমি আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে গেলে ২য় দফা স্থানীয় বিএনপি জামাতের ক্যাডারদের সাথে নিয়ে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে রামদার কোপ মারে। হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে হাতের রগগুলো কেটে যায়।

বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সাদিরুল ইসলাম বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ইউনিয়নে যাতে আমাদের দলীয় লোকজনের উপর হামলার করার দুঃসাহস কেউ না পায়।

জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সালাউদ্দিন বলেন,গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি জামাত সন্ত্রাসীরা বাঙ্গাবাড়ীতে ছাত্রলীগের উপর হামলা করেছে। এর আগে আমার উপর হামলা করে, ছাত্রলীগ নেতা আলমের উপর হামলা করে গুরুতর জখম করে। গত ছয়মাস থেকেই আতিক ভাই এর উপর হামলা করার প্লান করছিলো। অবিলম্বে বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কাওসার আলী বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আতিকের উপর হামলায় জড়িত বিএনপি জামাত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার চাই।

এদিকে আতিকের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত দের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ছাত্রলীগ, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ করে যাচ্ছে।
কিন্তু ১১ দিন পার হয়ে গেলেও মূল আসামি রা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পুলিশ বলছে তাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, মুল আসামিরা পলাতক থাকায় সময় লাগছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন