টাকার গাছ এখন কৃষকের বোঝা

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২২

আবুল কালাম আজাদ (রাজশাহী): রাজশাহী চিনিকলে এখনো আখ সংগ্রহ শুরু হয়নি, অপরদিকে থেসার মেশিনে আখ মাড়াই করাতে সরকারি ভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার জনপ্রিয় ফসল আখ এবার কৃষকের মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরজুড়ে আবাদ করার পর একসাথে বিশাল অঙ্কের টাকার যোগান দেয়া ফসল আখ পরিপক্ক হয়ে জমিতেই দাঁড়িয়ে আছে। আখ কেটে রবি মৌসুমের আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারছেনা কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, আখ কাটার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। তবুও তাঁরা না পারছেন জমির আখ অন্যত্র বিক্রি করতে, আবার না পারছেন নিজেরা মাড়াই করতে। চিনিকল আখ নেবার বিষয়ে এখনো কিছুই জানায়নি। জমি থেকে আখ কাটতে না পারায় গম, মশুর, সরিসা বা অন্য ফসল চাষাবাদের প্রস্তুতিও নিতে পারছেন না। এর ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে থেসার কলে আখ মাড়াই করে গুড় বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আখ মাড়াই করতে গেলেই প্রশাসন এসে থেসার করে আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাতে কৃষকরা আরো বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তবে উল্টো কথা বলছেন রাজশাহী চিনিকলের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, আখের এখনো পরিপক্কতা আসেনি। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে আখ সংগ্রহ শুরু করা হবে। কৃষকদের সাথে এ বিষয়ে সব সময়ই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রবি মৌসুমের সফল আবাদ করার এখনো অনেক সময় আছে।

রাজশাহী চিনিকল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারিশিল্প কারখানা রাজশাহী চিনিকলের আওতায় ৯টি সাবজোন এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাবজোন চারঘাট। চিনিকলের মোট আখের ৩০ শতাংশের অধিক আখ এই সাবজোন সরবারহ করে থাকে। চারঘাট সাবজোন এলাকায় এবছর ১ হাজার ২৬০ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। আখ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৫৫০ মেট্রিকটন। গত বছর আখ চাষ হয়েছিল ১ হাজার ৫৯০ একর জমিতে। সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন। তবে সংগ্রহ হয়েছিল ৬ হাজার ১৮ মেট্রিকটন।

উপজেলার রাওথা এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আখের চাষ করেছি। সার, কিটনাশক সব বাঁকিতে নেওয়া। জমির আখ গুলো সময়মত চিনিকলে দিতে পারলে কিংবা মাড়াই করতে পারলে গম, মশুরসহ অন্য আবাদ করতে পারতাম। কৃষি অফিস বিনামূল্যে গমের বীজও সরবারহ করেছেন। কিন্তু আখের কোনো ব্যবস্থা করতে পারছিনা। লাভের জিনিস এখন মাথার বোঝা।

জাতীয় কৃষক সমিতি চারঘাট উপজেলার সভাপতি হায়দার আলী জানান, আখ চাষ করে কৃষকরা মহাবিপদে পড়েছেন। রবি মৌসুম শুরু হলেও কৃষকরা জমি ফাঁকা পাচ্ছেনা। আবার মৌসুমের শেষের দিকে চিনিকল আখ নিলেও টাকা পেতে কৃষকেরা হয়রানির শিকার হয়। বাধ্য হয়ে থেসার কলে আখ মাড়াই করলে মেশিন জব্দ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা কৃষকদের নিয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

চারঘাট সাবজোন প্রধান ও রাজশাহী চিনি কলের উপ-সহকারী আখ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গতবারের চেয়ে এবার আখের উৎপাদন অনেক কম। আখ পরিপক্ক না হওয়ায় চিনিকলে আখ সংগ্রহ এখনো শুরু হয়নি। তবে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে আখ সংগ্রহ শুরু হবার কথা রয়েছে। কিন্তু কিছু কৃষক সরকারি নিয়ম অমান্য করে থেসার কলে আখ মাড়াই করছে।

তিনি আরো বলেন, জমিতে আখ থাকলেও কৃষকদের লোকসান হবেনা। কৃষকদের কথা চিন্তা করে চিনিকল আখের দাম বাড়িয়েছে। গতবার ১৪০ টাকা মণ আখ সংগ্রহ করা হলেও এবার ১৮০ মণ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আখের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি চিনকল বাঁচাতে কৃষকদের সহযোগিতা চান তিনি।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, থেসার কলে আখ মাড়াই করলে অনেকটা অংশ অপব্যবহার হয়। এজন্য থেসার কলে আখ মাড়াই করার ব্যাপারে সরকারি ভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ গুলোর বিষয়ে চিনিকলের সাথে আলোচনা করা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন