তীব্র জনবল সংকটে রাজশাহীর রেশম শিল্প: রেশমবোর্ডে ৫৮১টির মধ্যে ৪২৯ পদই শুন্য

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ২:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৩

আবুল কালাম আজাদ (রাজশাহী): তীব্র জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা ধুকছে রাজশাহীর রেশম শিল্প। রেশম গুটি ক্রয়ের তহবিল সংকট, চায়না সুতার আমদানি ছাড়াও ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় এই শিল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

এদিকে, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট দীর্ঘ দিনের। রেশম বোর্ডে অনুমেদিত পদের সংখ্যা ৫৮১টি। এই পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ১৫২ জন। আর শূন্য পদ রয়েছে ৪২৯টি।
জনবল সংকট ছাড়াও শ্রমিকদের সাত মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। ২২ জানুয়ারি রোবাবার থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে- ‘সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এমন সংকটের পরেও ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড।
সংশ্লিস্টরা বলছেন, দেশে ৯টি উচ্চ ফলনশীল তুঁতজাত উদ্ভাবন করেছে রেশম গবেষণাগার। ফলে রেশম গুটির গড় উৎপাদন বেড়েছে ৩০ থেকে ৭০ কেজি। এমন অবস্থায় ধীর গতিতে হলেও সুদিন ফিরতে শুরু করেছে রেশম শিল্প।

জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে উত্তরা গণভবন, নাটোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজশাহীর রেশম গুটি ও বস্ত্র দেখে চমৎকৃত হন এবং রেশম শিল্প বিকাশে স্বতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তারই ফসল হিসেবে পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড গঠিত হয়। তার পরবর্তী সময়ে এখানে জনবল সংকট দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের প্রথম শ্রেণির অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৮৪টি। এর মধ্যে পূরণকৃত পদ রয়েছে ২৫টি। আর শূন্য পদ রয়েছে ৫৯টি। প্রথম শ্রেণির চেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে শূন্য পদের সংখ্যা পাঁচটি কম। তবে এখানে অনুমোদিত পদেও সংখ্যাও কম।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৭২টি। পূরণকৃত পদে রয়েছেন ১৮ জন। আর শূন্য পদ রয়েছে ৫৪টি। তৃতীয় শ্রেণিতে মোট পদের সংখ্যা ৩৬৭টি। এখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯০ জন। শূন্য পদ রয়েছে ২৭৭টি। চতুর্থ শ্রেণিতে পদের সংখ্যা ৫৮টি। তার বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯ জন। শূন্য রয়েছে ৩৯টি পদ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী জানান, জনবল সংকট দীর্ঘদিন ধরে। এমন অবস্থায় বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে বেগ পেতে হয়। নিজের কাজ শেষেও শূন্য পদের ওই মানুষের কাজ তুলতে হয়। এমন অবস্থায় একেজনকে কয়েক জনের কাজ করতে হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ১৫৭ শ্রমিক সাত মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন করছেন। বিক্ষোভে শ্রমিকরা নিজেদের কষ্টের কথাগুলো গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ১১৯ শ্রমিক, রাঙ্গামাটি কাপ্তাই জার্ম প্লাজম মেইনটেন্যান্স সেন্টার চন্দ্রঘোনা (রাঙ্গামাটি) ২৩ জন ও সাঁকোয়া পঞ্চগড়ের ১৫ জন শ্রমিক রয়েছে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের প্রধান সহকারী প্রকৌশলী (তড়িৎ) ও পরিচালক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান জানান, রেশম উন্নয়ন বোর্ড, সিল্ক ফাউন্ডেশন ও রেশম গবেষণা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট এক সঙ্গে হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ফলে একেক জনকে অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচজনের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন