ধর্ষণ একটি সমাজের বৈকল্যতার বহিঃপ্রকাশ।

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

সায়েম খানঃ ধর্ষণ একটি সমাজের বৈকল্যতার বহিঃপ্রকাশ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ষণ নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ধর্ষণের ফলে আমাদের সমাজের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী (নারী) জীবনের সব পর্যায়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার জন্য আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পথে অন্যতম একটি অন্তরায় এটি। ধর্ষণ অন্যসব সন্ত্রাস বা অপরাধের মতো নয়। ফলে এটিকে আকস্মিকভাবে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা বলে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। ধর্ষণ হলো নারীর প্রতি সহিংসতার চূড়ান্ত রূপ। তার অর্থ দাঁড়ায় ধর্ষণের আগে নারীর প্রতি সহিংসতার অনেকগুলো ধাপ বা পর্যায় রয়েছে।

ধর্ষণকে নির্মূল করতে হলে নারীর প্রতি সহিংসতার এই ধাপগুলোকে শুরুতেই ধ্বংস করতে হবে। নারী হয়ে জন্ম নিলেই পরিবার- সমাজ ও পারিপার্শ্বিক সংস্কৃতি তাকে কিছু বিষয়ে মানিয়ে নিতে শিক্ষা দেয়। তার অর্পিত কিছু উপদেশ চাপিয়ে দেওয়া হয়। যা হল- মেয়ে মানুষকে কিছু বিষয় মেনে নিতে হবে, মুখ খোলা যাবে না বা প্রতিবাদ করা যাবে না। এই না বলতে বা করতে পারার বাধ্যবাধকতা নিয়ে যাপিত জীবনে নারী সর্বদাই নিজেকে গুটিয়ে রাখে। আবার শৃঙ্খলের এই বেড়াজাল ভেঙ্গে যারা বেরিয়ে আসতে চায় তাদের প্রতিদিনের জীবনলিপিতে যুক্ত করা হয় কলঙ্কের তকমা। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, এর সমাধান কোথায়? এতো প্রকট সমস্যার সমাধানটাও নিশ্চয় সহজ হবে না।
তবে আমাদের ঈমান ও আকীদাহ সাথে চেষ্টা চালাতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য শুধু নয়, মানুষে মানুষে বৈষম্য লোপের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আমূল পরিবর্তন করে মানুষের সমাজ কায়েম করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক সময় নারীও পুরুষতন্ত্রের পূজারী।
নারী হয়েও কেউ কেউ নারীর অগ্রগতি রোধ করতে জোরালো ভূমিকা পালন করে। আর পুরুষ তো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বেনিফিশিয়ারি।

তাই তার নিশ্চুপ থাকা বা বাহাবা কুড়ানোর আশায় প্রতিবাদের মিছিলে শরিক হওয়াটাও পুরুষতন্ত্রের নামান্তর। মানুষের সমাজ বিনির্মাণের আমাদের সকলের সহীহ্ অংশগ্রহণই পারে মুক্তির পথ বাতলে দিতে।

-----
লেখক;
সায়েম খান
উপ-দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।।

পোস্টটি শেয়ার করুন