রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ কার্যক্রমে বাধা থাকছে না, ইউজিসি’র নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে নিয়োগ কার্যক্রমের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন(ইউজিসি)। শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের অনুমতি দিয়ে ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামানের স্বাক্ষরিত পত্রে এই তথ্য জানানো হয়।

১২ জুন এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবিবার সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে এই চিচি পাঠানো হয়েছে।

পত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান কোভিড-১৯ এর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রয়েছে। শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রচলিত সশরীরে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা সম্ভব না হলে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন সাপেক্ষে অনলাইন পদ্ধতিতে পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা যেতে পারে।

ইউজিসি কর্তৃক প্রজ্ঞাপন

শর্তাবলী: ১। অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না;

২। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধান, বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার প্রেক্ষিতে অনুমোদিত পদের বিপরীতে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

৩। অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত একটি নীতিমালা থাকতে হবে।

৪। অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের অডিও-ভিডিও কমপক্ষে ২(দুই) বছরের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

৫। নির্বাচিত আবেদনকারীর মূল সনদপত্রসমূহ যাচাই করে নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে উপাচার্য বরাবর অনুরোধ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ এর স্বাক্ষরে অনুরোধ করে চিঠি পাঠানো হয়। তবে প্রায় ছয়মাস পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আট শতাধিক পদ শুন্য থাকায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা সচল রাখতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ- ১৯৭৩ অনুযায়ী সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান ১৩৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছয়মাসের জন্য এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেন।

বিদায়ী উপাচার্যের শেষ দিনে ৬ মে নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদান করলেও রটিন দায়িত্ব পালনকারী ভিসি’র দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ড. আনন্দ কুমার সাহার নির্দেশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম নিজ নিজ দপ্তরে যোগদানে স্থগিতাদেশ দেন।

এদিকে ৬ তারিখই অনুরোধ উপেক্ষার অযুহাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত বলে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। তদন্ত কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ- ১৯৭৩ অনুযায়ী নিয়োগকে অবৈধ বলে প্রতিবেদন করতে পারেন নি।

যদিও বাংলাদেশের মোট ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্বায়ত্বাশাসিত প্রতিষ্ঠান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত মে মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও এডহক ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগ প্রদানও করেছে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ইউজিসি কর্তৃক আইন অনুযায়ী চলে। গতমাসে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগও দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পোস্টটি শেয়ার করুন