ভাবনায় চাঁপাইয়ের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পূনর্বিন্যাস

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

মোঃ রুবেল হকঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংসদীয় আসন-২ এর অধীনে তিনটি পৃথক উপজেলা এবং পৃথক তিনটি থানা(গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট)।
প্রশাসনিক দায়িত্ব,উন্নয়ন কর্মকান্ড, কর্মকাণ্ড,আইন-শৃঙখলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে একজন সাংসদ, সার্কেলের দায়িত্বে একজন এডিশনাল এসপি, তিনজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তিনজন অফিসার-ইনচার্জ।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও পৃথক পৃথক ইউনিট, উপজেলা আওয়ালীগ,যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ। বিরোধী দলগুলোও একইভাবে তাদের ইউনিট গুলোর বিকেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহায়তা করবে, করছে।

কিন্তু সংসদীয় আসন-১(শিবগঞ্জ) ও সংসদীয় আসন -৩(চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর) এর ক্ষেত্রে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বৃহৎ জনগোষ্ঠী নিয়ে একটি করে মাত্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইউনিট। উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কোন বিকল্প নেই। তাই শিবগঞ্জ ও সদরকে দুইটি করে আলাদা প্রশাসনিক (উপজেলা ও থানা) ও রাজনৈতিক ভাবেও আলাদা (আওয়ামীলীগ/বিএনপি,যুবলীগ/যুবদল এবং ছাত্রলীগ/ছাত্রদল) ইউনিটে বিভক্তিকরণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিতকরণ সময়ের দাবী।

ভাবতেই অবাক লাগে! একটি সংসদীয় এলাকায় তিনজন ইউএনও ও ওসি অপরপক্ষে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দুইটি এলাকায় দুইজন ইউএনও ও দুইজন ওসি!

সারাদেশেই প্রশাসনিক পূনর্বিন্যাস হচ্ছে,
অবিভক্ত ঢাকা সিটি দুইটিতে পরিণত হলো, ময়মনসিংহ বিভাগ,ফরিদপুর বিভাগ হলো, কুমিল্লা,গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি হলো,রাজশাহী শহরে বেশ কয়েকটি থানা বৃদ্ধি পেয়েছে ,প্রতিবছর নতুন থানা ও উপজেলা হচ্ছে। পিছিয়ে পড়ে আছে আমাদের চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ।

প্রায় ৮ লক্ষ লোক নিয়ে, শিবগঞ্জের প্রশাসন ও পুলিশ দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছে,এই কথাটা বিগত কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি। ৪২ কিলোমিটার বর্ডার এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি, মাদকের স্বর্গরাজ্য।

শিবগঞ্জে নতুন একটি থানা, মনাকষায় একটি অত্যাধুনিক পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও বিসিএস পুলিশ অফিসারের কার্যালয় অতীব জরুরী, কিন্তু এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি দেখছি না।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় ব্রিগেডিয়ার এনামুল হক, যখন দায়িত্বে ছিলেন তখন তিনি ‘কানসাট পৌরসভা’ ও ‘কানসাট থানা ‘ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও কানসাটেরই স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে আলোর মুখ দেখেনি সেটা।

কানসাটবাসী এটা কেন বিরোধিতা করলো আমার মাথায় ঢুকেনা। চিন্তার দিক দিয়ে চাপাইবাসীর কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, অভিজ্ঞতা আলোকে বলতেই পারি, নোয়াখালী হলে এটা কোনদিনও হতো না। এজন্য নোয়াখালী নোয়াখালী-ই।

আমার মত হাবা,গোবা,সোজা,সরলকে নোয়াখালীর আলো বাতাসও সচেতন ও চালাক হতে বাধ্য করে। নোয়াখালী বাসী সচেতন ও ব্যবসাবান্ধব এবং নিজেদের এলাকার উন্নয়নটা তারা ভালো বুঝে।

আমার পুলিশ জীবনের প্রথম কর্মস্থল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা সামরিক, বেসামরিক শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা ও শিল্পপতিদের রাজধানীই বলা চলে।
যা সমগ্রদেশবাসী জানে, আর নোয়াখালীর মতিঝিল বা বানিজ্যিক রাজধানী চৌমুহনী যা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অার্থিক লেনদেনের জায়গা, যেখানে মানুষ ছাড়া সব প্রস্তুত হয়।

শিবগঞ্জের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এসব চিন্তাচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চৌকস ও মহৎ রাজনীতিবিদ দরকার। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, শিবগঞ্জ তথা পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ তেমন এগোতে পারে নাই।

এশিয়ার বৃহত্তম আমের বাজার কানসাটকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করা হোক।

সোনামসজিদ স্থল বন্দরকে আধুনিকরণ ও দালালমুক্ত করে পূর্নাঙ্গভাবে ডিজিটালাইজড করা হোক (কাস্টমস জবের অভিজ্ঞতা থেকে বললাম)।

পরনিন্দা, হিংসা বাদ দিয়ে,গাল ভরা যুক্তি-তর্ক বাদ দিয়ে,নিজে কী পেলাম এই অংক বাদ দিয়ে, সবাই একটি অংক করি;

সেটি হলো সুন্দর,মানবিক, জ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিবগঞ্জ।

এক্ষেত্রে উচ্চতর বিদ্যাপিঠে অধ্যয়নরত ও উচ্চপদে কর্মরত, সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন স্তরের জণগনকে এগিয়ে আসতে হবে,নিজ নিজ জায়গা থেকে সহযোগিতা করতে হবে, তবেই নিজ এলাকা উন্নত হবে, সাথে দেশও উন্নত হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর “সোনার বাংলা” স্বপ্ন বাস্তবে রুপান্তরিত হবে।

সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে শায়িত শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীরের আত্মদানের সোনালী ফসল চাঁপাইয়ের ঘরে ঘরে পৌছবে!

(পুলিশ অফিসার হিসেবে নয়, চাঁপাইবাবগঞ্জের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করলাম)

লেখকঃ
মোঃ রুবেল হক
এএসপি, নারায়নগঞ্জ জেলা।

পোস্টটি শেয়ার করুন