রংপুর মেডিকেলে অটিস্টিক শিশুদের জন্য ১০ টাকায় চিকিৎসা সুবিধা

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ১:১১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২২

ট্রিবিউন ডেস্ক: রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবস্থিত শিশু বিকাশকেন্দ্রে চলছে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা। নামমাত্র ১০ টাকা খরচে এখানে চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলার ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু। এক জন শিশু বিশেষজ্ঞ, এক জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, এক জন ফিজিওথেরাপিস্টসহ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে এ কেন্দ্রে।

প্রতিদিন এই কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসছে অর্ধশতাধিক প্রতিবন্ধী শিশু কিশোর ও যুবক। প্রায় ১২ বছর আগে হাসপাতালে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে উপকারভোগীদের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। বর্তমানে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে ১২ হাজারের অধিক শিশু। বিশেষায়িত এ চিকিৎসাকেন্দ্রে উত্তর অঞ্চলের ৯ জেলার শারীরিক ও মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা, যেমন—দেরিতে ঘাড় শক্ত হওয়া, দেরিতে বসা, দেরিতে কথা বলা, বয়সের সঙ্গে বুদ্ধির বিকাশ না হওয়া, পড়াশোনায় অমনোযোগী, অতিরিক্ত চঞ্চল—এমন অটিস্টিক শিশু- কিশোররা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থেকে ঐ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা এক প্রতিবন্ধী শিশুর মা আসমা আক্তার (২৭) বলেন, আমার সন্তানের বয়স ২৭ মাস চলছে। সে হাঁটতে পারে না। ডাক্তার তাকে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম ও স্টিমুলেশন শিখিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন নিয়মিত ব্যায়াম করতে। ওষুধপত্রও দিয়েছেন এবং বলেছেন শিশুটি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে হাঁটতে শুরু করবে। থেরাপি শেষ হলে তার সন্তান অনেকটা সুস্থ হয়ে যাবে।

বগুড়ার সোনাতলা থেকে এসেছেন সাম্মিয়ারা বেগম তার ১১ মাস বয়সি শিশুকে নিয়ে। তিনি বলেন, আমার শিশুটির ৯ মাস বয়সে জন্ম হয়। শিশুটির ঘাড় শক্ত ছিল না। শিশু বিকাশকেন্দ্রে ছয় সপ্তাহ চিকিত্সার পর সে এখন অনেকটাই সুস্থ। আমি আমার শিশুকে এখানে তৃতীয় বারের মতো চিকিৎসা নিতে নিয়ে এসেছি।

রংপুর শিশুবিকাশ কেন্দ্রের চাইলল্ড হেল্থফিজিসিয়ান আব্দুল্লা আল মাসুদ বলেন, এ কেন্দ্রে আসা প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের সব ইতিহাস রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করি এবং চূড়ান্তভাবে রোগ নির্ণয় করি। প্রয়োজনীয় ব্যায়াম, থেরাপি অথবা সাইকোলেজিক্যাল অ্যাসেসমেন্টের জন্য পরামর্শ দেই। এ ছাড়াও অন্য কোনো বিভাগের ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন, চোখ, নাক, কান, গলা বা নিউরো সার্জারির প্রয়োজন হলে সেই বিভাগে রেফার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগীদের ধীরে ধীরে সুস্থ করা সম্ভব।

রংপুর জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এই বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিজ্ঞজনরা। উত্তর অঞ্চলে অনেক দরিদ্র মানুষ আছে যারা অর্থের অভাবে তাদের প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের জন্য এই উদ্যোগ অনেক সুফল বয়ে নিয়ে আসবে বলে মনে করি।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিকাশকেন্দ্রের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আহাদ শাহ বলেছেন, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরিফুল হাসানও একই কথা বলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন