রাবিতে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসির অস্বাভাবিক তৎপরতা অব্যাহত, নিয়ম ভেঙে প্রক্টরকে অব্যাহতি

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক অস্বাভাবিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম। প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা অন্যান্য শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধকল্পে জরুরি সেবা ব্যতিত আগামী ৩০ মে পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল ও বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম অব্যাহত ছিলো।

এদিনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী প্রক্টর লিয়াকত আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব দিয়েছেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম।

অথচ নিয়ম অনুযায়ী- উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া রেজিস্ট্রার কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারি নিয়োগ প্রদান করতে পারেন না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এডহক’ এ নিয়োগ পেয়েছেন ১৩৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারি। মূলত তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ২৬ মে রাতে হঠাৎ করেই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার পরও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এটি দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের ও রেজিস্ট্রারের নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ বাতিলের ‘গভীর দুর্ভিসন্ধি’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত (তবে সরাসরি স্বাক্ষর নেই) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ বন্ধ এবং আগামী ১২ জুন পর্যন্ত ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে।
কিন্তু সরেজমিনে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সকল দপ্তর, অনুষদ ও বিভাগসমূহ খোলা ছিল।

এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসও চলাচল করেছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে তার নিকট চিঠি পাঠান রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, কোনো কর্মকর্তাকে অব্যাহতি কিংবা নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই উপাচার্যের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার সেই অব্যাহতিপত্রে কিংবা নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন। যেহেতু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত উপাচার্য নেই বিশ্ববিদ্যালয় চলছে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য দিয়ে। আর রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য কখনোই রেজিস্ট্রারকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাতে পারেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ মে উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ শূন্য হয়। ওইদিনই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব শামীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপাচার্যের দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়। উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েই অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে দিয়ে সদ্যবিদায়ী উপাচার্যের দেয়া ১৩৮ জনের নিয়োগ আদেশের ওপর যোগদানে স্থগিতাদেশ দেন।

সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যান সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ১৩৮ জনের পক্ষে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল।
তারা অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার নিকট জানতে চেয়েছিলেন- ‘আপনি কোন আইন বলে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা উপাচার্যের দেয়া নিয়োগ আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।’ তখন অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার একজনের ফোন পেয়ে এই নিয়োগ আদেশ স্থগিত করেছেন বলে নিয়োগপ্রাপ্তদের জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাওয়া একজন নিয়োগপ্রাপ্ত বলেন, ‘অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা আমাদের যোগদানে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এর জন্য তিনি কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি। আমরা ৩০ তারিখ পর্যন্ত তাকে সময় বেঁধে দিয়েছি বলেছি যে, আমাদের যোগদানের ওপর গত ৮ মে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত যে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করে সবাইকে স্ব-স্ব পদে যোগদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার জন্য।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য নতুন করে প্রক্টর নিয়োগ দিতে পারেন না বলেই সহকারী প্রক্টর একজনকে দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হয়েছে। বর্তমান প্রক্টরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় একজন সহকারী প্রক্টরকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন উপাচার্য আসলে তিনি নতুন করে আবার প্রক্টর নিয়োগ দিবেন।’

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ মে পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজ বন্ধের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কিন্তু বৃহস্পতিবারই সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম চলেছে- এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস বন্ধ থাকলেও প্রয়োজন অনুসারে জরুরী কাজগুলো চলছে। জরুরি বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য অফিস খোলা রয়েছে।’

পোস্টটি শেয়ার করুন