রাবিতে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়ে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, থানায় জিডি

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিশ্র কে নিয়ে সাহেব বাজার২৪.কম সহ কয়েকটি মিডিয়ায় অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত সেই শিক্ষক। সেই সাথে তিনি নগরীর মতিহার থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার ১০ জুন তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে আইনী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

গত বুধবার সাহেব বাজার২৪.কম এ “অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণী,এক বিষয়ে ফেল তবুও হলেন রাবি শিক্ষক ” এমন হেডলাইন করে নিউজ ভাইরাল করা হয়। পরবর্তীতে সেই একই নিউজ হুবহু দেশের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়ানো হয়। অথচ ইন্দ্রনিল মিশ্র প্রায় আট বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন একই সাবজেক্টে।

প্রতিবাদে ইন্দ্রনীল মিশ্র জানান, সংবাদে আমার মূল তথ্য গোপন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সংবাদ প্রকাশ করে সোসাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল করেন। এখানে আমার শিক্ষা জীবন নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে আমার সম্মানহানি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয় অপ্রাসঙ্গিক ভাবে আমার পিতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য, সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. চিত্ত রঞ্জন মিশ্র কে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জড়ানো হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে দুরভিসন্ধিমূলক ও আমার পিতার জন্য চরম মানহানিকর।

ইন্দ্রনীল মিশ্র আরো জানান, নিউজে আমার বিষয়ে বলা হয়েছে চতুর্থ বর্ষে একটি বিষয়ে ফেল ছিলো। অথচ সেই ৪০৩ কোর্সে শতকরা ৫০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হই আমি। যা রাবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে প্রমাণ আছে। এছাড়া যে প্রতিবেদক নিউজটি করেছেন তিনি তার বক্তব্যও নেননি। যা সাংবাদিকতার নীতি বিরোধী।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সার্কুলারে উল্লেখ করা হয় সনাতন পদ্ধতিতে পাশ করা প্রার্থীদের এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স ও মাস্টার্স চারটির মধ্যে অন্তত তিনটিতে প্রথম শ্রেনী থাকতে হবে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত ইন্দ্রনীল মিশ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ অর্জন করেন। যখন সারাদেশে জিপিএ ৫ খুব মেধাবী না হলে অর্জন করতে পারতেন না।

২০০৫-০৬ সেশনে ভর্তি হয়ে ২০১০ সালে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন । চতুর্থ বর্ষের ৪০৩ কোর্সে ৫০% নম্বর পেলেও রেজাল্ট প্রথম শ্রেনীতে নিয়ে আসার জন্য ইমপ্রুভমেন্ট দেন। সেই ইমপ্রুভমেন্টকে হলুদ সাংবাদিকতায় ফেল বলে উল্লেখ করেন।

২০১২ সালে স্নাতকোত্তরে তিনি প্রথম শ্রেণী অর্জন করেন। পরে তিনি ২০১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর শিক্ষকতা করেন।
এছাড়া তিনি ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আরেক টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৪ টি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর প্রকাশনা বের হয়েছে।

একজন শিক্ষককে এভাবে সম্মানহানি করে নিউজ প্রকাশ করায় শিক্ষক সমাজ বিব্রত ও ক্ষুব্ধ।

এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিশ্রের বাবা প্রফেসর ড. চিত্ত রঞ্জন মিশ্র বলেন, এই সংবাদে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আমার নাম জড়ানোয় আমি ব্যথিত। শিক্ষক সমাজকে নিয়ে এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন