রাবির সেই ১৩৮ জনের নিয়োগ বাতিলের তৎপরতার অভিযোগ ড. আনন্দ কুমার সাহা’র বিরুদ্ধে

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সদ্য বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান এর মেয়াদের শেষ মহূর্তে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ ১৩৮ জনের নিয়োগ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থাকা কর্মকর্তাদের অন্য দপ্তরে বদলি করেছেন রুটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা। এবং তাদের জায়গায় বিএনপি জামাতের সময় ৫৪৪ এ নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, শুধু তাই নয় এই নিয়োগকে বাতিলের জন্য তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে অভিযোগও করেছে নিয়োগপ্রাপ্তরা।

সম্প্রতি সংস্থাপন শাখার উপ- রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী, রেজিস্ট্রার শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার তরিকুল ইসলাম ও পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মামুনুর রশীদ মামুনকে বদলি করা হয়। যদিও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি কোন নির্দিষ্ট করে কোন নির্দেশনা বা অভিযোগ দিতে পারেন নি।

তবে রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. আনন্দ কুমার সাহা ১৩৮ জনের নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রথম থেকেই। তিনি রুটিন দায়িত্বে এসেই সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ সবাইকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরিয়ে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকেও মেয়াদ পুরণের আগেই সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপক লিয়াকত আলী কে।

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার উপ- রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি চাকুরি জীবনের ৩০ বছরের ২৫ বছরই সংস্থাপন শাখায় থেকেছি। আমার বিরুদ্ধে কেউ অনিয়মের অভিযোগ আনতে পারেন নি। এখনো পারেনি। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও আমার বিরুদ্ধে কোন আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারেনি।
তিনি তাঁর বদলির বিষয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের রোষানলেই এই বদলি করা হয়েছে। আমাকে জিয়াউর রহমান হলে বদলি করা হয়েছে বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার শাখায় সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তাঁকে পরিসংখ্যান বিভাগে বদলি করা হয়েছে। রবিবার তিনি সেখানে যোগদান করবেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তারা সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ ও নিয়োগপত্রে তাদের স্বাক্ষর থাকায় তাদেরকে অন্য শাখায় বদলি করেন বর্তমান রটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য।

১৩৮ জনের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সিনিয়র নেতা জানান, ১৩৮ জনের নিয়োগপ্রাপ্তরা ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে একাধিকবার দেখা করে বারবার তিনি নিয়োগের পক্ষে বলে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যা তার উল্টো চিত্র। তিনি নিয়োগপত্র বাতিলের জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের কোন অফিসিয়াল আদেশ ছাড়াই নিজেই উৎসাহিত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের দপ্তরে যোগদানে ৮ তারিখ স্থগিতাদেশ দেন তিনি। পরে আমরা তার কাছে মন্ত্রণালয়ের আদেশ র ডকুমেন্টস দেখতে চাইলে দেখাতেও পারেন নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বর্তমান রুটিন দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্য জরুরি এফসি মিটিং ও সিন্ডিকেট মিটিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেন। আগামী ২২ তারিখ সিন্ডিকেট মিটিং হওয়ার কথা। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের আশংকা তাদের নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করা হবে সিন্ডিকেটে।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগপত্র দেন বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। ৬ মে তারা যোগদান করে। পরে এঘটনা জানাজানি হলে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়।
সেদিনই মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগের বিষয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ভিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় সেই দিনই নতুন রটিন দায়িত্ব পান প্রোভিসি ড. আনন্দ কুমার সাহা। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি নিয়োগের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন