শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত শিক্ষকদের চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবি

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা শিক্ষকদের চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যমঞ্চ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেয়। কর্মসূচিতে অভিযোগ ওঠা শিক্ষকদের ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের চাকরি থেকে বহিষ্কার করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান বক্তারা।

তারা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের রিলিফ ভাস্কর্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ছিল না। মূল কাজে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বাঁ পাশে এবং নিচে বঙ্গবন্ধুর রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যম জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে। যেটি কোনো প্রগতিশীল শিক্ষকদের কাজ হতে পারে না।

বক্তারা এ সময় এসব অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক এএনএম ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. গোলাম সারওয়ার, ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান, হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহবায়ক ড. রবিউল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজ-আল-আমিন, রাবি শাখা বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, এমফিল রিসার্চ ফেলো ও রাবি শাখা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর মর্তুজা প্রমুখ।

মানুববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. শামীম হোসেন। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিন শিক্ষক হবিবুর রহমান, মীর আব্দুল কাইয়ুম ও সুখরঞ্জন সমাদ্দার স্মরণে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকটি নির্মাণ কাজের শুরু থেকে সংশ্লিষ্ট কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নামে তৈরি হলেও এতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।

যেখানে তিন বুদ্ধিজীবীকে ওপরে এবং মূল নকশার বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রিলিফ ভাস্কর্য বাঁ দিকে তুলনামূলক নিচে স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাসহ এটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন