২০২২ সালে রাজশাহীতে ২৪৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতিত

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২২

নিহাল খান, রাজশাহী: উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস) অত্র জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নারী ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে।মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে লফস সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেল থেকে রাজশাহীর প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি প্রকাশ করে। লফস মনে করে অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে। একের পর এক কৌশলে নারী ও শিশু নির্যাতিত হচ্ছে। যৌতুক ও পরকীয়ার যেন নির্যাতনের এক ভয়ংকর রুপ। এক্ষেত্রে কিছু বিদেশি টিভি সিরিয়াল পরকিয়াকে উৎসাহিত করছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।বিষয়গুলো কারও জন্য সুখকর নয়।

জানুয়ারী’২২ থেকে ডিসেম্বর’২২ সালে অমানবিক কিছূ ঘটে যাওয়া ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হলো-নারী হত্যা ২০ জন ও শিশু হত্যা করা হয়েছে ৬ জন,হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে ৪ নারী ও ২ জন শিশুকে, আত্মহত্যা করেন নারি ২৮ জন ও শিশু ১৮ জন, আত্মহত্যা চেষ্টা করেন ৩ জন নারী ও ১ শিশু, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১ শিশুকে, ধর্ষনের শিকার হয়েছেন ২৪ জন শিশু ও ২১ জন নারী, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন শিশু সহ ২ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন শিশু ১৪ জন ও নারী ১১ জন, ধর্ষন চেষ্টা করা হয় শিশু ৪ জনসহ ৮ জন নারীকে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয় নারী ও শিশু সহ ২১ জন, নির্যাতনের শিকার শিশু ২৮ জন ও নারী ৪৯ জন, ভিকটিম অফ পর্নোগ্রাফি ২ জন নারী ও ১ জন শিশু, নারী ও শিশু সহ নিখোঁজ ৮ জন, অপহরণ হয়েছে নারী ও শিশু সহ ১০ জন। শ্রীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে ১ নারীকে। এছাড়াও পাচারের চেষ্টা করা হয় ৪ শিশুকে। গত এক বছরে নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সর্বমোট ২৪৫ জন।

এর মধ্যে নগরীর একটি কলেজে শিক্ষকদের অপমান সইতে না পেরে রাফিউল ইসলাম রাফি (১৮) কীটনাশক পানে আত্মহত্যা,দুর্গাপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরোধ করে হাতুরী দিয়ে পিটিয়ে মেহেরুন (১৭) কে হত্যা, পুঠিয়া উপজেলার মধুখালী গ্রামে ক্যান্সার আক্রান্ত রাহেনা বেগম (৫১) অভাব সইতে না পেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা,নগরীর রাজপাড়া থানার বুলুনপুর ঘোষপাড়া এলাকায় স্কুল শিক্ষক ফাতেমা খাতুন (৩৭) কে তাঁর স্বামী শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা,নগরীতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সাজেন্টের বাড়ীতে কাজ করতে না চাওয়ায় ওই সার্জেন্ট গৃহকর্মী নারীকে তুলে আনতে প্রশাসন দ্বারা হুমকি,রামেক হাসপাতালের এক্সরে কক্ষে চিকিৎসাধীন কিশোরী রোগীকে যৌন হয়রানি, তানোরের স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ধারণ,নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন রায়পাড়া বালুরঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রেমিক সহ ৩জন মিলে প্রেমিকা (২২) কে ধর্ষণের চেষ্টা, বাগমারা উপজেলার সংরক্ষিত নারী আসনের এক প্রার্থী গণধর্ষণের শিকার এর ঘটনাগুলো সকলের জন্য উদ্বেগজনক।

লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন,অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে।যৌতুক ও পরকীয়ার কারনে অধিকাংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়াল পরকিয়াকে উৎসাহিত করছে।এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না এমন বাস্তবতায় ২০২২ সাল গত ২ বছরের করোনা মহামারির মধ্যে সব কিছু স্থবিরতা কাটিয়েছে কিন্তু ঘৃনিত অপরাধ নারী ও শিশু নির্যাতনের কৌশল পরিবর্তন হয়েছে।ধর্ষন বাড়ছে।সোস্যাল মিডিয়ায় অর্ন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবনতা বাড়ছে।একদিকে বাড়ছে বাল্য বিবাহ- অপর দিকে সংসার ভাঙ্গার তালিকা হচ্ছে লম্বা।প্রতিনিয়ত তুচ্ছ ঘটোনাতেও আত্বহত্যার প্রবনতা বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন,আমরা নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্যতে হতাশ কারন বাস্তবে এই পরিসংখ্যান আরও বেশি হবে। রাজশাহী অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতন সহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দিষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।পাশাপাশি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

লফস সকল নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবী জানায় এবং নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে রাজনৈতিকভাবে একমত পোষন করে নারী-শিশু নির্যাতনকারীকে সামাজিক ভাবে বয়কট করার আহবান জানান তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন