৮৬ বছর পর তুরস্কের হাজিয়া সোফিয়ায় ঈদের নামাজ

Chapai Chapai

Tribune

প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ দীর্ঘ ৮৬ বছর পর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার মসজিদটিতে ঈদের নামাজের ইমামতি করেন তুর্কি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রধান আলি এরবাস।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের জন্য ওয়ান-টাইম জায়নামাজ, জীবাণুনাশক, মাস্ক এবং পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। আর যারা মসজিদে জায়গা না পেয়ে বাইরে অবস্থান নিয়ে নামাজ আদায় করেন, তাদের জন্য বড় ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে হাজিয়া সোফিয়ায় ঈদের নামাজে অংশ নেয়া মুসল্লিদের রূপার তৈরি স্মারক উপহার দেন স্থানীয় ফাতিহ জেলার কর্মকর্তারা।

এর আগে গত শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদটি দীর্ঘ ৮৬ বছর পর নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এর আগে এটি জাদুঘর ছিল।
হাজিয়া সোফিয়া সর্বপ্রথম গীর্জা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। টানা ৯১৬ বছর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি গীর্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পরে ১৪৫৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বছর এটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এরপর ১৯৩৪ সালে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে তৎকালীন কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। তখন থেকেই স্থাপনাটি দেখতে সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় করতে শুরু করেন।

সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। গত ৮৬ বছর ধরে হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘর হিসেবেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। গত ১০ জুলাই তুর্কি আদালতের রায়ে স্থাপত্যটির জাদুঘরের মর্যাদা প্রত্যাহার করায় এটিকে আবারও মসজিদে রূপান্তর করা হলো।

এর আগে আদালত জাদুঘরের মর্যাদা খর্ব করার পরই তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী ২৪ জুলাই থেকে সোফিয়ায় জুমার নামাজ আদায় করা হবে। তবে এটি মসজিদে রূপান্তর করা হলেও এর অবকাঠামো ঠিক থাকবে এবং নামাজের সময় ছাড়া পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান এরদোয়ান।

পোস্টটি শেয়ার করুন